বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে দেশের বেশিরভাগ নদ-নদীর পানি বাড়ছেই। জামালপুরে বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনার পানি বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার ওপরে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ১৫টি গ্রাম। বিভিন্ন জায়গায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছেন বন্যার্তরা। অবিরাম বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের প্রধান দুই নদী তিস্তা ও ধরলার পানি আরো বেড়েছে । অবনতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি।

জেলার পাঁচ উপজেলার ২১ ইউনিয়নের প্রায় ৯০টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ আটদিন ধরে পানিবন্দি। তলিয়ে রয়েছে এসব এলাকার ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, নলকুপ, ফসলের ক্ষেত। দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানির চরম সঙ্কট। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বানভাসিরা। বানের পানি উঠায় লালমনিরহাটের ৪২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছেছে। ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদীর পানি বেড়ে গেছে। নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় লোকজন উঁচু বাড়ী, বাঁধ ও রাস্তায় আশ্রয় নিচ্ছে। পানিতে নলকুপ ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট।

যমুনা-ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বেড়ে জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। জেলার ৭ উপজেলার ৭৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ন এলাকার পাট ও আখসহ অন্যান্য ফসল। দেওয়ানগঞ্জের গুজিমারীতে পানির তোড়ে ভেঙে গেছে পরিত্যাক্ত রেল লাইনের প্রায় ৫০ ফুট । যমুনার পানি বেড়ে বগুড়ায় তলিয়ে গেছে চরাঞ্চলের বাড়ি ঘর, ফসলের জমি, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। পানিবন্দি অবস্থায় সোনাতলা উপজেলার তেকানী চুকাইনগর ও পাকুল্লা ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ।

ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি চরম রূপ নিয়েছে গাইবান্ধায়। ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও ঘাঘট নদীর বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে ৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা । বাড়িঘর ছেড়ে মানুষ বিভিন্ন উঁচু বাঁধ ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বাড়ছেই। সেই সাথে চলছে নদী ভাঙ্গন। তলিয়ে গেছে বাজার, রাস্তা ঘাট,ফসলি জমি ও বসতভিটাসহ নতুন নতুন এলাকা।

টানা বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় হাওড়া নদীর বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে আশ পাশের গ্রামগুলো। উপজেলার দুটি ইউনিয়নের অন্তত ১৫ টি গ্রামসহ ফসলের জমি, রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। মৌলভীবাজার সদরের খলিলপুরসহ ২৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। কুশিয়ারা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের শেরপুরের হামরকোনা অংশে প্রায় সাড়ে তিনশত ফুট ভেঙে গেছে। আশপাশে দেখা দিয়েছে আরো দুটি ভাঙন।

নদ নদীর পানি বাড়ার কারণে বিভিন্ন হাওড় ও সিলেট নগরীর নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। অনেক বাড়িঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে রয়েছে। সিলেটের সাথে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো সচল হয়নি। সুনামগঞ্জে উজানে পানি কমছে। তবে, সুরমার ভাটিতে পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে জগন্নাথপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও দিরাই উপজেলার বেশ কিছু এলাকা। এখনও সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর, সুনামগঞ্জ-ছাতক ও সুনামগঞ্জ হালুয়ারঘাট সড়কে।

বৃষ্টিপাত কমে এলেও পাহাড়ী ঢলে রাঙ্গামাটির ৪ উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বিলাইছড়ির ফারুয়া বাজার ও বরকলের কলাবুনিয়া বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া বাঘাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, ও বিলাইছড়ির নিম্নাঞ্চল এখনো পানির নিচে। বান্দরবানে পানিবন্দী কয়েক হাজার মানুষ। বন্যার পানিয়ে রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় গেলো বুধবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে সারা দেশের সাথে সড়ক যোগাযোগ।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও তিন শতাধিক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি-ঘরে ফিরতে পারেনি । টানা ৮ দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় মেরুং ইউনিয়নের ২৫ গ্রামের হাজারো মানুষ । দুর্গত এলাকায় ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। বন্যার কারনে বন্ধ রয়েছে ২৭ টি সরকারি প্রাইমারি স্কুল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *