ভালুকায় ধর্ষণ মামলার আসামি কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলার এক আসামি পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার হাতিবেড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম সাইফুল ইসলাম (৪০)। বাবার নাম জাবেদ আলী। বাড়ি ভালুকা উপজেলার কৈয়াদি গ্রামে।

পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে একটি পাইপগানসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সাইফুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা রয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন জানান, গত রাতে উপজেলার হাতিবেড় গ্রামে একদল লোক ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে খবর আসে। রাত সোয়া একটার দিকে সেখানে অভিযানে যায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতেরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। একপর্যায়ে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়।

পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ঘটনাস্থলে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার পরিচয় জানা যায়। এই ঘটনায় পুলিশের চার সদস্যও আহত হয়েছেন। তাদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৬ জুন সকালে উপজেলার এক ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। পথে সাইফুল ও রমজান নামের দুই ব্যক্তি মেয়েটিকে জাপটে ধরে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যান। তারা ওই ছাত্রীর গলায় ছুরি ধরে হত্যার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। তারা ঘটনার ভিডিও করেন। ঘটনাটি কাউকে জানালে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হবে বলে তারা মেয়েটিকে ভয় দেখিয়ে ছেড়ে দেন।

গত ২৪ জুন পরীক্ষা দিতে একই রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল ওই ছাত্রী। এ সময় সাইফুল ও রমজান ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেবেন বলে হুমকি দিয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার করেন। পরে ওই ছাত্রী বাদী হয়ে সাইফুল ও রমজানকে আসামি করে ভালুকা মডেল থানায় মামলা করেন।

এদিকে আসামিদের কেউ ধরা না পড়ায় এ নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে ভালুকায়। পরে ধর্ষণ মামলার দুই আসামিকে ধরিয়ে দিতে গত রোববার লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন স্থানীয় সাংসদের স্ত্রী জেসমিন এরশাদ। সবশেষ গত রাতে এক আসামি পুলিশের সঙ্গে কথিত এই বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *