ভারতের কাছে হেরে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

মুশফিককে নিয়ে লড়াইটা চালাতে চেয়েছিলেন সাকিব। হলো না। চাহালের বলে সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়লেন শামির হাতে। থিতু হয়েই বিদায় নিলেন মুশফিক। থিতু হয়ে বিদায় নিলেন লিটনও। সাকিব একাই লড়ছিলেন। ৩৪ তম ওভারে ভেঙে পড়ল সাকিবের প্রতিরোধও। তাই হলো না ভারত-বধ। শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশের শেষ চারে খেলার  স্বপ্নও।

আজ  মঙ্গলবার এজবাস্টনে এই ম্যাচে বাংলাদেশ ২৮ রানে হেরেছে ভারতের কাছে। ভারতের করা ৩১৪ রানের জবাবে লাল-সবুজের দলের ইনিংস থেমে যায় ২৮৬ রানে।

এদিন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন সাকিব। তিনি ৭৪ বলে ৬৬ রান করে পান্ডিয়ার বলে আউট হন। মুশফিক করেন ২৪ রান। পান্ডিয়ার বলে দিনেশ কার্তিককে ক্যাচ দেন লিটন। ২২ রান করে আউট হন তিনি।

শেষ দিকে সাইফউদ্দিন অপরাজিত ৫১ রান করে কিছুটা নজর কাড়েন। আর সাব্বির রহমান ৩৬ রান করেন।

পান্ডিয়া তিন উইকেট নেন। আর বুমরাহ চার উইকেট পান। এই দুজনের বোলিং তোপে বাংলোদেশের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হন।

শুরুতে বুমরার ওপর চড়াও হয়েছিলেন তামিম। দুর্দান্ত চার এল তিনটি। কিন্তু আশা জাগিয়েও আউট হয়ে গেলেন তিনি। শামির বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি।

ভালো খেলছিলেন সৌম্যও। কিন্তু পান্ডিয়ার বলে কোহলিকে ক্যাচ দিলেন তিনি।

৩১ বলে ২২ রান করে আউট হন তামিম। সৌম্যকে নিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন সাকিব। কিন্তু হল না। ৩৮ বলে ৩৩ রান করে আউট হন সৌম্য।

শুরুতে মনে হচ্ছিল রোহিত আর রাহুলের ব্যাটে ভর করে আজ বুঝি ৪০০ করেই ফেলবে ভারত! শেষ ২০ ওভার আনন্দে ভাসালেন মুস্তাফিজ। ভারতের বিপক্ষে তৃতীয়বারের মত পাঁচ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আর তাতেই ম্যাচে দারুণভাবে ফিরল বাংলাদেশ।

৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩১৪ রান করেছে ভারত। জিততে হলে বাংলাদেশকে চাই ৩১৫ রান। বিরাট কোহলি,হার্দিক পান্ডিয়া, ধোনি, দিনেশ কার্তিক ও শামিকে আউট করেন মুস্তাফিজুর রহমান। শুধু কি তাই? ভুবনেশ্বরকে রান আউট করেন তিনি।

রোহিত শর্মা ও কে এল রাহুলের জুটির পর আর কোনো ব্যাটসম্যানই সেভাবে দাঁড়াতে পারলেন না। তবে যা করার ওই দুজনই করলেন। রোহিত শর্মা ১০৪ ও কে এল রাহুল ৭৭ রানে আউট হন।

উদ্বোধনী জুটিটা ভাঙেন সৌম্য সরকার। ৬ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে একটি উইকেট পান। দারুণ বল করেছেন সাকিব আল হাসানও । ১০ ওভারে ৪১ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি। এছাড়া রুবেল নেন একটি উইকেট।

গত বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে রোহিত শর্মা করেন ১৩৭ রান। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে করেন ১২৩ রান। আজও সেঞ্চুরি করলেন। অথচ ৬ রানে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর! ক্যাচটা যে ফেলে দিলেন তামিম ইকবাল খান!

সেই রোহিত শর্মা আবার ক্যাচ দিলেন ৩০তম ওভারে; সৌম্য সরকারের বলে। এক্সট্রা কভার দিয়ে মারতে চেয়েছিলেন। ধরা পড়লেন লিটন দাসের হাতে। ৯২ বলে ১০৪ রান করে আউট হন তিনি।

৩৩ তম ওভারে আউট হন কে এল রাহুল। তিনি করেন ৭৭ রান। রাহুলকে ফেরান রুবেল হোসেন। তবে বাংলাদেশকে দুঃসময়ের মধ্যে আনন্দে ভাসান মুস্তাফিজ। ৩৯ তম ওভারে বিরাট কোহলি ও হার্দিক পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে দেন মুস্তাফিজ। কোহলি ২৬ রানে রুবেলের হাতে ধরা পড়েন। অন্যদিকে সৌম্যকে ক্যাচ দেন পান্ডিয়া। কোনো রান না করেই ফেরত গেছেন তিনি।

এজবাস্টনে যিনি টস জিতবেন, তিনি ব্যাটিং নেবেন। এটা অনুমিত ছিল। বিরাট কোহলি তা-ই করলেন। টসে জিতে ব্যাটিং নিলেন। টস হেরে মাশরাফিও বললেন, টসে জিতলে তিনি ব্যাটিং নিতেন। তবে এটাও বললেন, ‘ভারতের বিপক্ষে আগে বোলিংটাও খারাপ না। চেজ করাটাও মন্দ না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *