সহধর্মিণীর কাছে লিখা অব্যক্ত কথামালা…এস,এম,নুরুল আবছার।

প্রিয় সুজনা,

আমার ভালোবাসা নিও।আমার আদরের সন্তানদেরকে আদর আর ভালোবাসা দিও। বিবাহিত জীবনের পর এবার মনে হয় তোমাকে ছেড়ে আর আমার সন্তানদের ছেড়ে একাকী প্রবাস জীবন অতিবাহিত করতেছি।

তুমি কিন্তু এবার প্রবাসে আসতে দিতে চাওনি কিন্তু বাস্তবতার কারনে আবার রাজি হলে। কারনটা ছিল আমার শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো না। শরীর টা বেড়ে গেছে অনেক আগেই কিছু দূর হাঁটার পর আর হাঁটতে পারি না। আবার কিছুক্ষন বসে বিশ্রাম নিয়ে তারপর হাঁটতে হয়। তাছাড়া তুমি জানো, রাতে আমি একা থাকতে পারিনা কারন আমার দুটি অসুখ! একটা হচ্ছে আমি রাতে ভয় পাই, দ্বিতীয়টি হচ্ছে রাত গভীর হলে আমার পা’য়ে খিচুনি শুরু হয়। এই সব কারনে তুমি আমাকে প্রবাসে আসতে দিতে রাজি ছিলে না। সংসার জীবনে অনেক কষ্ট তুমি পেয়েছ যা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।

আমি বাস্তববাদী মানুষ কিন্তু এমন কিছু বাস্তবতা আমি মানতে পারিনি যেটা আমার জীবনে আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি আবেগ প্রবণ মানুষ। যার কোন মুল্য নেই বর্তমান সমাজে। তিলে তিলে গড়ে তোলা আমার সোনার সংসার আজ অতল সাগরে নিমজ্জিত হতে যাচ্ছে। যেটা আমি চাইনি কখনোই। আমার অল্প বয়সে আল্লাহ পাক আমাকে এতটা দিয়েছেন যা আমি কল্পনা করিনি। ওমানে আমার এত সুন্দর ফুলের মত জীবনে কেন সফর সংক্ষিপ্ত করতে হল তা বললে আমি আর স্থীর থাকতে পারি না। সততা আর ন্যায় নিষ্ঠার মাঝে আমার জীবন সীমাবদ্ধ ছিল। আমি ছিলাম সদ্য ফুটন্ত একটি গোলাপ। অকালে তারা আমাকে ঝড়িয়ে দিয়েছে। তারা সমাজের কাছে আমাকে নিচু করেছে কিন্তু আল্লাহর কাছে নয়। বাস্তবতা কত নির্মম তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি বিগত চারটি বছর। মনে হচ্ছিল আমার এক একটা দিন আমার জন্য নতুনভাবে চেনা জানা হচ্ছে।

এত সংগ্রাম করলাম দেশে কিন্তু জয়ী হতে পারিনি, সমাজের অসৎ মানুষগুলোর কারনে। আমাকেও তাদের কাতারে সামিল করে নিতে এমন কোন অপকর্মের পন্থা বাকী রাখেনি তারা যা অবলম্বন করেনি। কিন্তু আল্লাহ পাক সহায় ছিল আমার।তারা আমার সামাজিক রাজনৈতিক মানমর্যদা ক্ষুন্ন করতে পারেনি। তিনি সত্য, তিনি ন্যায়ের বিচারক। আমাকে আবার নতুনভাবে জীবন সংগ্রামে নামতে হল হয়তো এটাই বিধাতার লিখন।

এত কিছুর পরেও কখনো আমার এতটুকু আপসোস হয়নি আমি জীবনে কি পেলাম আর কি হারালাম। তোমার সবসময় একটা অভিযোগ ছিল আমার প্রতি সেটা হচ্ছে কখনোই আমি তোমাকে একটা ভালোবাসার চিঠি লিখিনি কেন ? আসলে আমি সবসময় অভিমানী মানব। এটা আমার কৃপণতা নয়। এটা আমার অপ্রকাশিত ভালোবাসার নমুনা। একটা কথা আছে যাকে বেশি ভালোবাসা যায় তার প্রতি রাগ অনুরাগ অভিমানটাও একটু বেশি থাকে। জীবনের গোধূলী বেলায় হয়তো এমন একটা দিন সৃষ্টিকর্তা দিবেন যেটা তুমি কল্পনাও করোনি কখনো।

নিজেকে অপরাধী মনে হয় আমার,আবার একদিকে নিজের কর্মের জন্য অহংকার বোধ হয়। তুমি জানো না আমার হাঁটুর ব্যথাটা ইদানিং বেড়ে গেছে, তোমাকে বলি না কারন তুমি টেনশন করবে। গত ২০ রমজান বাথরুমে পা পিচ্ছিল খেয়ে হাঁটুতে আবার ব্যাথা পেয়েছি। তোমাকে বলিনি কারন তুমি সব সময় চিন্তা করবে তাই। আজ বেশ কিছু দিন কষ্ট পাচ্ছি। তোমাকে বুঝতে দেয়নি অথচ প্রতিদিন তোমার সাথে আর ছেলে মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলি কিন্তু সেই কথাটা বলা হয়নি। পাওনাদারের চাহিদাটা পূরণ করতে পারলে নিজেকে সুখী মানুষ মনে করব।

এত কিছুর পরেও আমি সুখে আছি । নামাজের সময় সৃষ্টিকর্তার দরবারে একটাই প্রার্থনা করিও কারো হক নিয়ে যেন তিনি আমার মৃত্যু না ঘটায়। এগুলো আমার ছেলেটা সহ্য করতে পারবে না।নামাজ পড় আর ছেলে মেয়েকে বল নামাজ পড়ে খোদার কাছে আমার সুস্থতা যেন কামনা করে। তবে আল্লাহ পাক এখন অনেকটা সুখে রেখেছেন তার জন্য তাহাঁর দরবারে লাখ লাখ শোকরিয়া।আমাকে যারা কলংকিত আর সমাজের কাছে দোষী বানিয়েছে তাদের প্রতি আমার কোন দুঃখ বা ক্ষোভ নাই।আল্লাহ পাক তাদেরকে সুখে রাখুক যদিও বা আমাকে তারা কষ্ট দিয়েছে।

বড় স্বপ্ন মেয়েটা ডাক্তার হবে। আল্লাহ পাক যেন এটা কবুল করেন। তাকে দিয়ে গ্রামে গরীব দুঃখী মানুষের সেবা করতে চাই।কখনো যদি না বলে পরপারে চলে যেতে হয় তাহলে সকল ভুলের জন্য ক্ষমা করে দিও। কারণ তোমাকে যে কষ্ট দিয়েছি তা ছিল আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আর যারা আমার কষ্টের কারন তাদেরকে আল্লাহ পাক হেদায়েত করুক। আমাকে দায়ী করিও না দোয়া করিও।

ইতি,

তোমার সাথী আবছার

এস,এম,নুরুল আবছার

প্রধান সম্পাদক

হাটহাজারী বার্তা 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *