” তুমি নারী তাই চুপ থাকো”

বর্তমান সমাজে নারী পুরুষ সমান অধিকার বলে আমরা সবাই জানি।কিন্তু এখনো আমরা অনেক সমাজে দেখতে পাই নারীদের সমান অধিকার দেওয়া হয় না।পুরুষতান্ত্রিক সমাজে প্রত্যেকটি খাতেই পিছিয়ে রাখতে চায় নারীদের।তাদেরকে তুচ্ছ হিসেবে গণ্য করা হয়।

প্রাধান্য দেওয়া হয় না কোনো কাজেই। নারী ছাড়া সমাজ বা বিশ্ব কল্পনা করা অসম্ভব।বিশ্বে যত কল্যাণ সাধিত হয়েছে তার পিছনে নারীর হাত রয়েছে পুরুষের পাশাপাশি।তাই ত বলা হয়, “পৃথিবীতে যা কিছু মহান চির কল্যাণকর অর্ধেক তার গড়িয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”।নারী পুরুষের সমান অবদানে এ পৃথিবী হয়েছে সুন্দর ও বসবাসযোগ্য।অথচ স্বীকার করতে চায় না অনেকেই।সেই আদি যুগ থেকে আজ অবদি নারীরা হয়ে আসছে নির্যাতিত ও নীপিড়িত। নারীরা পুরুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে করে যাচ্ছে সকল কাজ।এগিয়ে যেতে চায় বিশ্বের দরবারে।আলোকিত করতে চায় সমাজকে।তবুও তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দেওয়া হয় না।তাচ্ছিল্য করতে চায় তাদের। আদিকাল থেকেই নারীরা তাদের শ্রম, বুদ্ধি,মেধা,যোগ্যতা দিয়ে নতুন নতুন ইতিহাস তৈরি করছে। পুরুষের পাশাপাশি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে তারা।সকল বাঁধা বিপত্তিকে পার করে এভারেস্টের চূড়ায়ও পা রেখেছে।

এছাড়া গবেষণা,চিকিৎসা,খেলাধুলা ও অন্যান্য সকল কিছুতেই অবদান রাখছে নারীরা।কিন্তু কষ্টের বিষয় এই যে আজও নারীরা অবহেলিত,অপমানিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। এখনো অনেক সমাজ ও পরিবার আছে যেখানে নারীদের কোনো অধিকারই দেওয়া হয় না। অধিকার ত দূরের কথা তাদের কথা পর্যন্ত কেউ শুনতে চায় না।পরিবারের কোনো স্বিদ্ধান্তে অংশ নিতে দেওয়া হয় না।অনেক পরিবার আছে যেখানে ছেলেদের প্রাধান্য দেওয়া হয় বেশি আর নারীদের তুচ্ছ করে দেখা হয়।

এমনকি স্কুলে পর্যন্ত ছেলেদের পাঠানো হয় মেয়েদের ঘরের কাজ করতে বলা হয়।মেয়েদেরকে ঘরের বের হতে দেওয়া হয় না।এছাড়াও কিছু কিছু পরিবার এখনো কন্যা সন্তান হলে তাদের মেরে ফেলে অথবা রাস্তায় ফেলে দেয় কোনো এক নর্দামার পাশে।অবহেলায় আর অপমানের সাথে বাড়তে হয় সেসব শিশুদের। কর্মক্ষেত্র, রাস্তাঘাট, বাসে ইত্যাদি জায়গায় ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে নারীদের।যৌতুকের কারণে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য নারী।শশুড়বাড়ীর অত্যাচার আর স্বামীর মার খেয়ে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অনেক নারী।নারীই পারে একটি ঘর আলোকিত করতে। একজন পুরুষের সাফল্যের পিছনে একজন নারীর হাত থাকে।তাই ত কবি বলেছেন,”কোন কালে একা হয়নিকো জয়ী,পুরুষের তরবারী;প্রেরণা দিয়েছে শক্তি দিয়েছে বিজয়ালক্ষী নারী”।

তবুও আমরা দেখতে পাই কোনো ভুল করলে পুরুষের দিকে আঙ্গুর তোলা যায় না কারণ সে পুরুষ বলে।কিন্তু নারীর দিকে আঙ্গুল তুলতে কেউ দ্বীধাবোধ করে না।দোষ না থাকা স্বত্তেও শুনতে চায় না নারীদের কথা। বলা হয় তুমি নারী তাই চুপ থাকো।একজন নারী হওয়া কি দোষের?নারী হয়েছে তাই কি কোনো কথা বলা যাবে না?।মাথা উচুঁ করে দাড়াতে পারবে না সমাজে?পৃথিবীর যাবতীয় মহান সৃষ্টি ও কল্যাণকর কাজে পুরুষের পাশাপাশি সমান অবদান রেখেছে নারীরা।একটি ঘরকে আলোকিতো করছে নারীরা।তাও কেনো বলা হয় তুমি নারী তাই চুপ থাকো?

লেখিকা: শাহনাজ শিমু ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *