নকল করতে না দেওয়ায় সরকারি কলেজের শিক্ষককে লাথি

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেওয়ায় পাবনায় কলেজ শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা।

রোববারের এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সারা দেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

তবে, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ রয়েছে দাবি করে ঘটনায় নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

সিসি ক্যামেরা ফুটেজে দেখা যায়, রোববার দুপুর ২টায় উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাসুদুর রহমান।

কলেজের মূল ফটকে কিছু বুঝে ওঠার আগেই অতর্কিতে হামলা করে মাসুদুরকে পেটাতে শুরু করে একদল যুবক।

ছবিতে কলেজ সভাপতি শামসুদ্দীন জুন্নুনকে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করতে দেখা গেলেও, শিক্ষকদের অভিযোগ জুন্নুনের নির্দেশেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার পর থানায় অভিযোগ তো দূরের কথা নিরাপত্তাহীনতায় ঘর থেকেই বের হচ্ছেন না বলে জানান শিক্ষক মাসুদুর রহমান।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, ৬ মে কলেজের ১০৬ নম্বর কক্ষে উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় দুজন পরীক্ষার্থী দেখাদেখি করায় তাদের সতর্ক করি। তারপরও তারা বিরত না হলে, কিছু সময়ের জন্য খাতা জব্দ করে রাখায় তারা ক্ষুব্ধ হয়। এ ঘটনার পর বুঝতে পারছিলাম ছাত্রলীগের ছেলেরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ।

‘পরে রোববার বাড়ি ফেরার সময় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দীন জুন্নুনের নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমাকে কিল, ঘুষি, লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। পরে শিক্ষকরা এসে আমাকে উদ্ধার করে’।

মাসুদুর আরো বলেন, ঘটনার পর আমি ভয়ে কাউকে মারধরের কথা জানাইনি। থানায় অভিযোগ করারও সাহস হয়নি। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে ঘটনা জানাজানির পর অনেকেই আমাকে সাহস দিয়েছেন।

৩৬তম বিসিএস শিক্ষক মাসুদুর বলেন, আমাকে মারধরের পর ঘটনা আড়াল করতে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হয়রানির কথা বলা হচ্ছে। যে নারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, তারাও আমাকে বলেছে তাদের অভিযোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে, কর্মরত অবস্থায় লাঞ্ছিত হলাম, এরপরও যদি বিচার না পাই তবে আর কিছু বলার নেই।

লাঞ্ছিতের ঘটনার পর মাসুদুরের বিরুদ্ধে এক পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা না নিলেও বানোয়াট অভিযোগের তদন্তে কমিটি করেছে কলেজ প্রশাসন ।

এ নিয়ে শিক্ষকদের চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা শিক্ষক সমাজের জন্য অপমানের। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ চাই, অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে।

সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি শামসুদ্দিন জুন্নুন বলেন, শিক্ষক মাসুদুরের ওপর হামলায় আমি বা ছাত্রলীগ জড়িত নয়। বহিরাগত সন্ত্রাসীরা স্যারকে আক্রমণ করলে আমরা প্রতিরোধ করে সন্ত্রাসীদের বের করে দিয়েছি।

কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল কুদ্দুস বলেন, শিক্ষকরা বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *