মা হলো ধর্ষণের শিকার কিশোরী, সন্তানের নাম রাখল ‘অত্যাচার’

সারাদেশজুড়েই ধর্ষণ নামের ভয়াবহ এই সামাজিক ব্যধি ছড়িয়ে পড়েছে অনেকটা প্রকট আকারেই। গতকিছুদিন ধরেই দেশজুড়ে নানাস্থানে লাগামহীন আকারেই ঘটছে ধর্ষণকান্ড। এই ভয়ানক বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেননা কেওই! নিরাপদ নয় শিশু, আবাল বৃদ্ধা বণিতা কেওই!

নীরবে নয়! বরং সরবেই চলছে এই অপরাধ। তবে সামাজিক লোকলজ্জা, ভয়, নিরাপত্তাহীনতার মত নানা কারনে নিরবেই মুখ বুজে হয়তোবা নিত্যই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে অসংখ্য।

এবার আরেকটি ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে ধর্ষণে মা হওয়া ১৪ বছরের কিশোরীকে ফের ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তার শিশু সন্তানকেও শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে ওই কিশোরীকে জোরপূর্বক জঙ্গলে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে শ্রীপুর পৌর এলাকার গিলারচালা গ্রামের হাজী আব্দুল মান্নানের ছেলে জহিরুল ইসলাম। পরে ওই শিশু অসুস্থ হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে।

ঘটনা জানাজানি হলে (২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮) ওই শিশুর পিতা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৯(১) মামলা হয়। মামলা হওয়ার পর আসামী গ্রেপ্তার হয় এবং পরে আদালত থেকে ধর্ষক জহিরুল জামিনে ছাড়া পায়।

জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য ওই শিশুসহ তার পরিবারকে নিয়মিত নির্যাতন করছে জহিরুল। মঙ্গলবার (৭-মে) সকাল আটটার দিকে ধর্ষক জহিরুল’র সহযোগিতায় তার বন্ধু সিজান (১৯) বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে আবার ধর্ষণ করে। মাকে ধর্ষণের পাশাপাশি শিশু সন্তানটির ওপরও করা হয়েছে শারীরিক নির্যাতন। পরে কিশোরীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

ধর্ষক সেজান নেত্রকোনা সদর উপজেলার গাজার কান্দি গ্রামে হাবুলের ছেলে। সে মান্নান হাজির বাড়ির ভাড়াটিয়া। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেছে করেছে পুলিশ।

জানা যায়, প্রথমবার ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকেই কিশোরী ও তার স্বজনরা শিশুটির পিতৃপরিচয়ের দাবিতে বিচার চেয়ে ঘুরেছে সবার দ্বারে দ্বারে। কিন্তু বিচারের পরিবর্তে তাদের ওপর চলছে নানা ধরনের মানসিক ও সামাজিক অত্যাচার। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই শিশুটির নাম রেখেছে ‘অত্যাচার’।

কিশোরীর বাবা জানান, তাদের সামাজিক অবস্থান নেই। তাদের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানায়। একটু সচ্ছল থাকার আশায় তারা শ্রীপুরে এসে কাজ নিয়েছিলেন। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে তাদের ওপর যে ধরনের নির্যাতন হচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রতিবাদস্বরূপ তারা শিশুটির নাম রাখেন ‘অত্যাচার’।

তিনি বলেন, বিচার পাই আর না পাই শিশুটির নামের মাধ্যমে আমরা অত্যাচারের কাহিনী শোনাতে চাই সবাইকে। সবাইকে বুঝাতে চাই গরিবের জন্য আইনের ভাষা অন্যরকম। এই সন্তানের পিতৃপরিচয় আড়াল করতে নানা ধরনের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সাদি জানান, মঙ্গলবার রাতে কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে সেজানকে অভিযুক্ত করে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। ইতিমধ্যে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেজানের ডিএনএ টেস্ট করার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *