হালদা থেকে মা রুই মাছ উদ্ধার


আবুল মনছুর; উপমহাদেশের কার্প জাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী। এ নদীর প্রাণ মা মাছ। মা মাছ না থাকলে নদীটিই অর্থহীন হয়ে পড়বে। কিন্তু অতিগুরুত্বপূর্ণ এ মা মাছ নিধনে চলছে প্রতিযোগিতা। অসাধু ব্যবসায়ীদের কু-দৃষ্টির কারণে প্রাকৃতিক সম্পদ এই মা মাছ হারিয়ে যাচ্ছে। নির্বিচারে অবাধে কারেন্ট জাল বা ঘেরা জাল বসানো হচ্ছে এ নদীতে। প্রতিনিয়ত কারেন্ট জাল বা ঘেরা জালের বিরুদ্ধে ইউএনও রুহুল আমিন অভিযান পরিচালনা করেও বন্ধ করা যাচ্ছে না।

অপর দিকে ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে হালদা নদীর উপর নানা নির্যাতন ও অত্যাচারের কারণে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বিভিন্ন প্রজাতির পেটে ডিম ভর্তি মা মাছ হালদা নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেছে স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা। হালদা নদীতে মা মাছের মরণ দেখে এলাকার ডিম সংগ্রহকারীরা শঙ্কা প্রকাশ করছে। প্রতি বছর ডিম ছাড়ার মৌসুমে মা মাছ তিন দফা ডিম দিয়ে থাকে কিন্তু এই মৌসুমে এখনো পর্যন্ত মা মাছ ডিম দেয়নি। এই মৌসুমে হালদা নদীর বিভিন্ন স্পট হতে শুধুমাত্র পেটে ডিম ভর্তি বিভিন্ন প্রজাতির মৃত অবস্থায় মা মাছ উদ্ধার হচ্ছে।

এ দিকে ইউএনও রুহুল আমিন রাতদিন পরিশ্রম করে হালদা নদী নির্যাতনকারীদের প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার পরও আজ বুধবার (১মে) সাড়ে ৩ টার দিকে উপজেলার উত্তর মাদার্শা আমতোয়া এলাকা থেকে ঘেরা জাল দিয়ে নিধনকৃত ৭ কেজি ওজনের একটি মা রুই মাছ উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, উত্তর মাদার্শা আমতোয়া এলাকার মির্জা আলি বাড়ির মৃত গুরা মিয়ার পুত্র শামসু বুধবার (১মে) ভোরে ঘেরা জাল বসিয়ে মা রুই মাছটি নিধন করে। পরে বিক্রির উদ্দেশ্য মাছটি অন্যত্র নেয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় চেয়ারম্যান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে চৌকিদার ও দফাদারের মাধ্যমে নিধনকারীর বাড়ি থেকে বস্তাবন্দী মা রুই মাছটি উদ্ধার করে। এ সময় শামসু মাছটি রেখে পালিয়ে যায়।

পরে উদ্ধার করা মা মাছটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুহুল আমিন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিধনকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। আপাতত মাছটি ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আগামিকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরীতে সংরক্ষণের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *