বিএনপির সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ শরিকরা

সংসদে যাওয়ার ইস্যুতে পুরোপুরি ইউটার্ন নিয়েছে বিএনপি। শপথের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের মধ্যেই নাটকীয়ভাবে সোমবার ঘোষণা এসেছে সংসদে যাবে দলটি। মহাসচিব ছাড়া বাকি পাঁচজন ইতিমধ্যে শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানও করেছেন।

জোটের প্রধান দল বিএনপির এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যে। সোমবার সন্ধ্যায় বিএনপির এমন সিদ্ধান্ত জানার পর থেকে নিজেদের মধ্যে এ নিয়ে কথাবার্তা বলছেন শরিক দলের নেতারা।

২০ দলের নেতারা বলছেন, বিএনপির এমন সিদ্ধান্তে তারা ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত। বিএনপি এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে দাবি তাদের। দলটি এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে তারা বলেন, আমরা তাদের কাছে জোটের বৈঠকে অবশ্যই এর ব্যাখ্যা চাইবো।

বিএনপি জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাদের কী কথা হয়েছে বা হয়নি এ ব্যাপারে আমাকে বলা হয়নি বা ২০ দলীয় ঐক্যজোটের মিটিং ডাকা হয়নি, আলোচনাও হয়নি।’

অলি বলেন, ‘বিএনপি সর্বপ্রথম এ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছিল। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করার পরে ওই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তারা সংসদে যাচ্ছে, এখন তারা দলের কর্মীদের কী জবাব দেবে? জনগণকে কী জবাব দেবে? সেটা তাদের ওপর নির্ভর করে। তবে আমি মনে করি এটা হঠকারী একটি সিদ্ধান্ত।’

এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহদাত হোসেন সেলিম বলেন, ‘যেখানে কোনো নির্বাচন হয়নি আমরা সেই সংসদে শপথের বিপক্ষে। এটা জাতির সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। বেইমানি করা হয়েছে। চক্রান্তের অংশ হিসেবে তাদের এমপি করা হয়েছে। এই চক্রান্তের কারণে তারা শপথ নিয়েছেন।’

বিএনপির এই সিদ্ধান্তে শরিকরা সবাই ক্ষুব্ধ এমনটা দাবি করে তিনি  বলেন, ‘আমরা বিএনপির কাছে মিটিংয়ে জবাব চাইবো। ব্যাখ্যা চাইবো। বিএনপি অতীতে অনেক ভুল করছে। তারা ভুলের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি। আমরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ।’

জোটের আরেক শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘এখানে আমি মন্তব্য করতে অপারগ। কারণ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মহোদয়ের সঙ্গে আমার নিজের কোনো কথা হয়নি এবং তারা যখন কথা বলেন তার সাক্ষীও আমি নই। অতএব এ প্রসঙ্গে একমাত্র প্রধান শরিক, আমাদের জোটের প্রধান শরিক বিএনপি স্পষ্ট বক্তব্য দিতে পারবে।’

কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান বলেন, ‘বিএনপির মতো একটা বৃহত্তম রাজনৈতিক দল শপথ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও যেভাবে লুকোচুরি করে শেষ সময়ে এসে শপথ নিলো এটা দুঃখজনক। এটা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এই ছলচাতুরি নীতি ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বিএনপির জন্য বুমেরাং হবে।’

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ‘কারান্তরীণ বেগম খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে চি‌কিৎসাধীন রেখে এম‌পির শপথ নেয়া স‌ঠিক হয়নি। অযথা এই ভু‌লের মাশুল ১৬ কো‌টি মানুষকে দিতে হবে।’

এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের অন্য দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে মধ্যসারির নেতারা বিএনপির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ। অনেকে বিএনপিকে ‘গাদ্দার’ আখ্যায়িত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখিও করছেন।

গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ভোট ডাকাতি হয়েছে এমন দাবি করে বিএনপিসহ ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে। দুই জোটের বৈঠকেই সিদ্ধান্ত হয় যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা শপথ নেবেন না এবং নতুন নির্বাচনের দাবিতে তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। তবে গণফোরাম থেকে বিজয়ী সুলতান মনসুর ও মোকাব্বির খান এই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই শপথ নেন। পরে বিএনপি থেকে বিজয়ী জাহিদুর রহমান জাহিদও শপথ নেন।

দলীয় বিজয়ীদের নিয়ে চাপে পড়া বিএনপি সিদ্ধান্ত নেয় তারা কোনোক্রমেই সংসদে যাবে না। যারা যাবে তাদের বহিষ্কার করা হবে। এমনকি শপথ নেয়া জাহিদুর রহমানকে বহিষ্কারও করে দলটি। তবে এর মধ্যেই সোমবার নাটকীয়ভাবে বিএনপির চার সদস্য শপথ নেন। এর কিছুক্ষণ পরই দলীয়ভাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা সংসদে যাচ্ছেন। তিনি নিজেও শপথ নেবেন বলে ইঙ্গিত দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *