গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলন করতে চাই : ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা এখন আর বক্তব্যের মধ্যে থাকতে চাই না। কিছু কাজ করতে চাই। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে ডাইনামিক সংগঠনে পরিণত করে দেশনেত্রীর মুক্তি, গণতন্ত্রের মুক্তি এবং আমাদের নেতাদের মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে চাই।

সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ফোরাম আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সব মামলা প্রত্যাহার এবং যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর মুক্তির দাবিতে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, আন্দোলন ও লড়াইয়ের কোনো বিকল্প নেই। বড় কিছু পেতে হলে সংগ্রামের মধ্যেই পেতে হয়। আমাদের হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের বুঝতে হবে, আমরা অত্যন্ত কঠিন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগুচ্ছি।

তিনি বলেন, সরকার সুচিন্তিতভাবে অত্যন্ত গুছিয়ে এক দলীয় শাসনের দিকে যাওয়া শুরু করেছে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা সেইভাবে প্রতিরোধ করতে পারিনি। কারণ আওয়ামী লীগ সমস্ত রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নজিরবিহীন নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়েছে। আপনাদের বুঝতে হবে, ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক লড়াই সবসময় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমান সময় খুব কঠিন সময়। এ সংগ্রামও খুব কঠিন। এ সংগ্রামকে হাসি খেলার মধ্য দিয়ে উত্তরণ করা সম্ভব নয়। আজকে আমরা যদি আন্তর্জাতিক রাজনীতির দিকে তাকাই দেখবেন সব জায়গায় কর্তৃত্ববাদ ঝুঁকে বসে আছে। গণতন্ত্র পিছিয়ে যাচ্ছে। যারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, তারা সেইভাবে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন না।

তিনি বলেন, ৯০’ র গণঅভ্যুত্থান আর ২০১৯ এক সময় নয়। এ কথাটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। মাথায় রেখেই আমাদের পরবর্তী রণকৌশল নির্ধারণ করতে হবে। আর এজন্য ভাবতে হবে, পড়তে হবে, আন্তর্জাতিক বিশ্ব সম্পর্কে জানতে হবে। আমাদের চিন্তা করতে হবে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংগঠনকে কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়। যাতে বিশ্বরাজনীতির সঙ্গে লড়াই করতে পারি।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কথা জানিয়ে ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী এতোটা অসুস্থ যে আমি বর্ণনা করতে পারবো না। আমি নিজে গিয়ে দেখেছি। তিনি নিজে বিছানা থেকে উঠতে পারেন না, তাকে অন্যের সাহায্য নিতে হয়। হাঁটতে পারেন না, হুইল চেয়ারে চলতে হয়। খেতে পারেন না। তার শরীর একদম ভালো নেই।

দেশের অর্থনীতি খাত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের এক মন্ত্রী বলেছেন, অত্যন্ত মার্জিতভাবে মধ্য আয়ের দেশের অর্থনীতিকে যদি ঠিক না করা যায়, তাহলে কোনো লাভ হবে না। অর্থাৎ এটা এখনও মাধ্যম আয়ের দেশ হয়নি। অথচ সরকারের উন্নয়নের ঢোল বাজতেই আছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শামছুজ্জামান সুরুজের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আমান উল্লাহ আমান, নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এম ওবায়দুল হক নাসির প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *